ডেস্ক নিউজ : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মহিপালে নির্মিত দেশের প্রথম ছয় লেনের ফ্লাইওভার উদ্বোধন হচ্ছে আগামী ৪ জানুয়ারি। বৃহস্পতিবার বিকেলে অনলাইন প্রথম ফেনীকে উদ্বোধনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফেনী পৌরসভ্যার প্যানেল মেয়র ও যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম মিয়াজী স্বপন।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর বরাত দিয়ে স্বপন মিয়াজী প্রথম ফেনীকে আরো বলেন, ৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় বসে ভিডিও কনফারেন্স’র মাধ্যমে ফেনীর এই ফ্লাইওভারটির উদ্ধোধন করবেন। এসময় ফেনীতে এর ফলক উম্মেচন করবেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। এ উপলক্ষে মহিপালস্থ চাড়িপুর স্কুল মাঠে এক সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এখন চলছে শেষ মুহুর্তের রং, সাজসজ্জা ও প্রস্তুতির কাজ।
ফ্লাইওভার প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৯ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবদুল মোনেম লিমিটেড মহিপাল ফ্লাইওভারের নির্মন কাজ করছে। ৬৯০ মিটার দীর্ঘ ২৪ দশমিক ৬২ মিটার প্রশস্ত এই ফ্লাইওভারের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১৫৭ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের নভেম্বরে নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ২০১৮ সালের জুন মাসে। প্রায় ছয় মাস আগেই উদ্বোধন হতে চলেছে ফ্লাইওভারটি।
ইতোমধ্যে ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ।
মহিপাল টাার্মিনাল সংলগ্ন মহিপাল ভূ্ইয়া বাড়ির বাসিন্ধা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী জাফর আহমেদ ভূইয়া বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রামের দ্রুত গতির গাড়িগুলো ফ্লাইওভার ব্যবহার করে দ্রুত গন্তব্যে চলে যেতে পারবে। এতে করে সময় যেমন বাঁচবে তেমন যানজটে পড়তে হবে না। অপরদিকে ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামগামী ছোট পরিবহন চলাচলের পাশাপাশি মহিপাল হয়ে নোয়াখালী-লক্ষীপুর রুটে চালচলকৃত (দাগনভূঞা, সেনবাগ, বেগমগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, রামগতি ও রায়পুর) গাড়িগুলো চলাচল করে। মহিপাল অংশে পূর্বে যানজট সৃষ্টি হলেও ফ্লাইওভারটি চালু হলে মহীপালে গাড়ির চাপ আগের চাইতে অনেক কমে যাবে।
মহাসড়কে চলাচলকৃত যাত্রীবাহি বাস চালক আনোয়ার জানান, মহাসড়কের ফেনীর মহিপাল অংশ ও ফতেহপুর রেলগেইট অংশে দেড় থেকে দুই ঘন্টা যানজটে পড়তে হয়। মহিপাল ফ্লাইওভারটি চালু হলে যানজট অনেকটা কমে যাবে। তাছাড়া ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারপাসটি দ্রুত নির্মান কাজ শেষে করলে ফেনঅতে যানজট আর থাকবে না বলে তিনি মনে করেন।
নির্মাণ কাজের তত্ত্বাবধায়ক সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইশেনের (এসডব্লিউবি) কর্মকর্তা মেজর ফয়সাল বলেন, ফ্লাইওভারের ৯৭ শতাংশের কাজ শেষ হয়েছে। চলিত মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে সব ধরনের কাজ শেষ হয়ে যাবে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহিপালের প্রবেশপথ চাঁড়িপুর রাস্তার মাথা থেকে মহাসড়কের ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের আগ পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে ৬৬০ মিটারের এই ফ্লাইওভার। ইতোমধ্যে ৬৫০ মিটারের কাজ শেষ হয়েছে। সর্বমোট ১৭৮টি পাইলের সবগুলোর কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া, ২২ পাইলের ক্যাম্প, মোট ৬৬.৩৩ মিটার পিয়ার কলামের কাজ, দুই পাশে ১৩২০ মিটারের কাজ, ২২১০ মিটার সাইট ড্রেনের মধ্যে ২১০৪ মিটারের কাজ শেষ হয়েছে। সর্বমোট ১৩২ পিসি গার্ডার, এপ্রোচ রোড ডান/বাম-এর ৩৬৪০ মিটারের মধ্যে ৩৫৩০ মিটার, ১০টি পিয়ার হেডের কাজ, ১১টি ডেক্স স্লাবের কাজ, ৫০৬টি ক্রস গার্ডার, ৩৬৪০ মিটার কার্ভ স্টোনের কাজ, ১৩২০ মিটার ফুটপাতের ওয়ালের ১৩১৫ মিটারের কাজ, ৬৬০টি মেডিয়ান পিলারের ৬৫০টির কাজ, রি ব্লক বসানোর কাজও শেষ হয়েছে। সর্বমোট ১৮২০ মিটার ইলেট্রিক কাজের মধ্যে ১৭১০ মিটারের কাজ ও সংশ্লিষ্ট ভূমি অধিগ্রহনের কাজ শেষ হয়েছে।











